Search engine optimization ( সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) এর সংক্ষিপ্তরূপ হলো SEO । আমরা সকলেই কম বেশি Google সার্চ ইন্জিন এর সাথে পরিচিত। কারণ বর্তমানে Google সার্চ ইন্জিন বেশ জনপ্রিয়তা ‍অর্জন করেছে। এছাড়া পৃথিবীতে অনেক সার্চ ইন্জিন রয়েছে তাদের মধ্যে সেরা কয়েকটি হলো [ Google, Yandex, Baidu, Yahoo, bing ] ইত্যাদি।

আর এইসব সার্চ ইন্জিনের প্রথম পেজের সবার উপরে থাকার জন্য কোন ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরিণ ও বাহ্যিক দিক গুলোতে অপটিমাইজেশন করাকেই Search Engine Optimization বা SEO বলা হয়।

SEO (এসইও) হলো এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে সার্চ ইন্জিনকে বুজানো হয় যে এই ওয়েবসাইটের এই পেজটিতে এই এই তথ্য রয়েছে। যার ফলে কোন ভিজিটর সার্চ ইন্জিনে এসে সেই বিষয়টি নিয়ে সার্চ করার সাথে সাথে আপনার ওয়েবসাইটিকে সার্চ ইন্জিন সবার উপরের দিকে দেখানোর চেষ্টা করে এর ফলে আপনার সাইটে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিজিটর প্রবেশ করে ঐ সার্চ ইন্জিন থেকে।

SEO কত প্রকার ও কি কি?

প্রধানত SEO বা Search engine optimization দুই প্রকার:

  1. হোয়াইট হ্যাট (White Hat) SEO
  2. ব্লাক হ্যাট (Black Hat) SEO

হোয়াইট হ্যাট (White Hat) SEO

যে পদ্ধতিতে কোন ধরনের অবৈধ্য উপায় অবলম্বন না করে সঠিকভাবে প্ররিশ্রম করে ওয়েবসাইট সার্চ ইন্জিনে র‌্যাংক করানো হয় তাকে হোয়াইট হ্যাট SEO বলে। এই পদ্ধতিটি সব ধরণের সার্চ ইন্জিন সমর্থন করে এবং হোয়াইট হ্যাট SEO তে কোন ধরনের রিকস নেই।

হোয়াইট হ্যাট (White Hat) SEO আবার দুই প্রকার:

  • পেইড (Paid Online Advertising) SEO
  • অর্গানিক (Organic Traffic) SEO


পেইড (Paid Online Advertising) SEO

এই পদ্ধতিতে Google Ads For Businesses নামে গুগলের একটি সার্ভিস আছে। সেখানে ডলার এর মাধ্যমে বা টাকা দিয়ে আপনার সাইটকে গুগল সার্চের উপরে রাখা হয়। এর ফলে গুগল থেকে যে কয়জন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে ক্লিক করে প্রবেশ করবে সেই প্রতি ক্লিকে আপনাকে গুগলকে টাকা দিতে হবে। আর এরূপ ফলাফল এর ক্ষেত্রে আপনার সাইটের ইউআরএল (URL) পূর্বে Ad . শব্দটা বোল্ড আকারে দেখা যাবে।

Robi Cloud Paid Online Advertising SEO

পেইড এসইও (SEO) এর মাধ্যমে খুব সহজেই গুগলের প্রথম পেজ এর সাবার উপরে আসা যায় যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর ভিজিটর গুগল থেকে পাওয়া যায়।

অর্গানিক (Organic Traffic ) SEO

যে এসইও (SEO) এর জন্য গুগলকে টাকা দিতে হয় না তাকে অর্গানিক ট্রাফিক এসইও (SEO) বলে। এর জন্য শুধু একটু কষ্ট করে আপনার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে আপনার সাইটে কিছু পরিবর্তন করে গুগলকে বুজাতে হয় যে আপনার সাইটে এই এই তথ্য রয়েছে তাহলেই গুগলের সবার প্রথম পেজের সবার উপরে আনা সম্ভব।

অর্গানিক ট্রাফিক এসইও (SEO) আবার দুই প্রকার:

  • অনপেজ এসইও (On-Page SEO)
  • অফপেজ এসইও (Off-Page SEO)

অনপেজ এসইও (On-Page SEO)

অনপেজ এসইও (SEO) হলো ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরিণ এমন কিছু কাজ যা করার মাধ্যমে সার্চ ইন্জিন ওয়েবসাইটটি সর্ম্পকে জানতে পারবে এবং ওয়েবসাইটটিকে সহজেই খুজে পাবে।

এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে অনপেজ এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে যদি কোন ভাবে কোন রকমের একটুও ভুল হয় তাহলে কিন্তু সার্চ ইন্জিন আর আপনার ওয়েবসাইটটি খুজে পাবে না। তাই এই কাজটি খুবই দক্ষতার সাথে করতে হয় ।

অনপেজ এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইটে যে যে কাজ গুলো করতে হয় তা হলো:

  • Verify google webmaster tools
  • Index sitemap
  • Domain Name Optimization
  • Keyword Optimization/keyword research
  • HTML tag H1, H2, H3 Optimization
  • Title Optimization
  • Meta Description Optimization
  • Web analytics
  • Content Optimization
  • Image Optimization
  • No follow, Do follow link
  • Increase website speed

অফপেজ এসইও (Off-Page SEO)

যে কোন ওয়েবসাইটের প্রচার প্রচারনা বৃদ্ধি করাকেই অফপেজ এসইও বলে। সার্চ ইন্জিন ছাড়া অন্য কোন উপায়ে সাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি করা । যেমন অন্য জনপ্রিয় কোন ওয়েবসাইটে আপনার সাইটের লিংক দেওয়া বিভিন্ন ফ্রাম সাইটে আপনার সাইটের লিংক শেয়ার করা । সোশাইল মিডিয়াতে আপনার সাইটের লিংক শেয়ার করা এগুলোই মুটামুটি অফপেজ এসইও (SEO) এর অংশ।

অফপেজ এসইও (Off-Page SEO) হলো বিশাল বড় পরিসরে ও দীর্ঘ সময়ের কাজ। তাই নিয়মিত অফপেজ এসইও (Off-Page SEO) করে যেতে হয় তাহলেই উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে।

অফপেজ এসইও (SEO) এর জন্য যে কাজগুলো করতে হয় সে গুলো হলো:

  • Web 2.0
  • Link Building
  • Forum posting
  • Article Submission
  • Social Bookmarking
  • Review Submission
  • PDF Submission
  • Video Submission
  • Image Submission
  • Directory Submission
  • Guest Post
  • Email marketing

ব্লাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO) Spamdexing

যে প্রদ্ধতিতে অবৈধ উপায়ে সার্চ ইন্জিনকে বোকা বানিয়ে নানা রকম স্পামিং এর মাধ্যমে সার্চ ইন্জিনের প্রথম পেজের সবার উপরের দিকে আসা যায় তাকে ব্লাক হ্যাট এসইও (SEO) বলে।

এই এসইও (SEO) কোন সার্চ ইন্জিনই সমর্থন করে না। তাই এটা অস্থায়ী । ব্লাক হ্যাট এসইও (SEO) করলে যে কোন সময় আপনার সাইটিকে গুগল প্লান্টি দিতে পারে যার ফলে আপনি আর কখনোই শত চেষ্টা করেও আপনার সাইটিকে সার্চ ইন্জিনে র‌্যাংক করাতে পারবেন না। তাই ব্লাক হ্যাট এসইও(SEO) না করাই উত্তম। ব্লাক হ্যাট এসইও এর জন্য যে কাজগুলো করতে হয় তা হলো:

  • Doorway page
  • Keyword Stuffing
  • Invisible Article
  • Duplicate content
  • Paid Backlink

এসইও (SEO) শিখে আয় করার উপায়

১। গুগল এডসেন্স থেকে আয়:

আপনি যদি খুব ভালো এসইও (SEO) করতে পারেন এবং যে কোন সাইট আপনি এসইও (SEO) করে র‌্যাংক করাতে পারেন। তাহলে আপনার জন্য গুগল এডেসেন্স হতে পারে এক অন্যতম আয়ের উৎস।

এর জন্য আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং সেখানে নিয়মিত কিছু কিছু আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। সাইটটি পরিপূর্ণ এসইও করে গুগলে প্রথম পেজে র‌্যাংক করাতে হবে ফলে খুব কম সময়ে আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর ভিজিটর আসতে শুরু করবে তারপর আপনি আপনার সাইটে গুগল এডসেন্স এড করে দিবেন এবং সেখান থেকে আপনার আয় হতে থাকবে।

এটা খুবই ভালো ও জনপ্রিয় আয়ের উপায়। বিশ্বের অনেক মানুষ এইভাবে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা আয় করে চলেছে। আপনি যদি সত্যি আপনার সাইটে পরিপূর্ণ এসইও (SEO) করে ভালো পরিমাণের ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন তাহলে এখান থেকে আপনার প্রতি মাসে $1000 এর ও বেশি ডলার আয় করা সম্ভব।

২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং:

অনলাইনে এমন অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে যারা বিভিন্ন বড় বড় জনপ্রিয় ব্লগ বা ওয়েবসােইটকে অ্যাফিলিয়েট করার সুযোগ দিয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে সেরা ও বড় ই-কমার্স ওয়েবসেইট হলো Amazon।

আমরা অনেকেই হয়ত Amazon Affiliate নামটি শুনেছি। আপনি যদি একটি রিভিউ ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন পণ্য সর্ম্পকে বিস্তারিত লিখে রিভিউ দেন। একই সাথে পোষ্টের পন্য গুলোর সাথে যদি আমাজন এফিলিয়েট সাইটের লিংকটি দিয়ে দেন তাহলে সেই লিংকে ক্লিক করে অনেকে সেই পন্য টি আমাজন ওয়েবসােইট থেকে কিনবে। যার ফলে আমাজন আপনাকে তাদের লভ্যাংশ থেকে কিছু টাকা দিবে । এভাবে আপনার রিভিউ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

তবে হ্যা এই কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই খুব ভালো এসইও (SEO) জানতে হবে। কারণ এই সব সাইটের গুগলে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি তাই তাদেরকে টপকে আপনার সাইটেকে র‌্যাংক করা এক কথায় প্রায় অসম্ভব তাই অবশ্যই আপনাকে খুব ভালো এসইও (SEO) এর কাজ জানতে হবে একমাত্র এসইও (SEO) এর মাধ্যমেই এই কাজে সফল হওয়া সম্ভব।

৩। মার্কেটপ্লেস:

আপওয়ার্ক (Up work), ফীল্যান্সার (Freelancer), ফাইবার (Fiverr), পিপল পার আওয়ার (PeoplePerHour ইত্যাদি প্রচুর মার্কেটপ্লেস রয়েছে। চাইলে সেগুলোতে জয়েন করে এসইও (SEO) এর কাজ করে টাকা আয় করতে পারেন। এসব মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক মানুষ রয়েছে যারা এসইও (SEO) এর কাজ করানোর জন্য বসে রয়েছে আপনি তাদের কাজ করে দিয়ে তাদের কাছ থেকে আপনার পারিশ্রমিক হিসেবে একটা অর্থ দাবি করতে পারেন এবং এভাবে আপনি প্রতিমাসে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

৪। লোকাল মার্কেট:

আপনি যদি ভালো ভাবে খোজ নিতে পারেন তাহলে আপনি আপনার আশে পাশে কিংবা আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের অনেককেই পাবেন যারা এসইও (SEO) এর কাজ করাতে চায় । তো আপনি তাদের কাজ গুলো করে দেওয়ার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। এছাড়াও আপনার আশেপাশে এমন অনেক কোম্পানি পাবেন যাদের এসইও (SEO) করার জন্য কর্মী দরকার তো যদি ভাগ্য সহায় হয় তাহলে একটি জব ও পেয়ে যেতে পারেন।

এছাড়াও বিভিন্ন সাইটের সাথে যুক্ত হয়ে আপনি কন্ট্রাকে এসইও (SEO) করে দিতে পারেন এবং টাকা আয় করতে পারেন।

৫। লোকাল ব্যবসা:

আপনার যদি কোন পন্য থেকে থাকে তাহলে আপনি তার ব্যবসা করতে পারেন এসইও (SEO) করার মাধ্যমে। ধরুন আপনার একটি ইনেক্টনিক পন্যের দোকান আছে বা যেকোন ধরনের দোকান আছে আপনি ইচ্ছে করলে সেই পন্য গুলো আপনার ওযেবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।

কিভাবে SEO শিখবো?

আসলে এসইও (SEO) শিখার জন্য যা যা প্রয়োজন তার প্রায় সব কিছুই রয়েছে ইন্টারনেটে। আপনাদেরকে শুধু একটু কষ্ট করে তা খুজে নিতে হবে।

তাই এসইও (SEO) শেখার জন্য বা এসইওতে অবিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হলে আপনারকে অবশ্যই কয়েকটা বিষয় সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে।

(ক) ইন্টারনেট: সবার প্রথমে ইন্টারনেটের ব্যবহার সঠিকভাবে শিখে নিতে হবে।
(খ) ইংরেজী: আপনাকে অবশ্যই মিডিয়াম বা ভাল মানের ইংরেজী জানতে হবে।
(গ) অফিস প্রোগ্রাম: শুধুমাত্র অফিস প্রোগ্রামের এমএস ওয়ার্ড (Microsoft Word) টা মোটামুটি জানতে হবে।
(ঘ) ফটোশপ: ছবির সাইজ ঠিক করা বা টুকটাক কাজের জন্য ফটোশপ (Adobe Photoshop) জানতে হবে।
(ঙ) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ: প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ HTML and CSS হালকা জানা থাকতে হবে।

অনেকে ভেবে থাকতে পারেন আমি তো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি। আমি বলবো আপনি জানেন না। কারণ শুধু ফেসবুক ইউটিউব আর গুগল থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করার নামই ইন্টারনেট নয়।

আপনাকে এমন ভাবে ইন্টরনেটের ব্যবহার আয়ত্ত করতে হবে যাতে আপনি ইন্টারনেট থেকে যে কোন কিছু খুব সহজেই খুজে বের করতে পারেন।

তারপর আপনাকে এসইও (SEO) রিলেডেট বিভিন্ন রিসোর্চ খুজতে হবে এবং সেগুলো থেকে আস্তে আস্তে বেসিক ধারনা নিতে হবে।

এছাড়াও ইউটিউবে এখন প্রচুর ভিডিও বিনামূল্যে পাওয়া যায় সেখান থেকে ধারনা নিতে হবে। একটা সময় পর দেখবেন আপনি এসইও (SEO) এর অনেকটা কাজই পারেন।

আর এসইও (SEO) কোন নির্দিষ্ট কাজ নয় যে এই এই কাজ গুলো করলেই আমার কাজ শেষ তাই নিয়মিত এসইও (SEO) করে যেতে হবে।

0 Shares:
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *